স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ছে, সেই সাথে বাড়ছে হৃদস্পন্দন নিরীক্ষণের (Heart Rate Monitoring বা হৃদস্পন্দন পর্যবেক্ষণ) চাহিদা। স্মার্টওয়াচ এখন শুধু সময় দেখার যন্ত্র নয়, বরং স্বাস্থ্য বিষয়ক অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার নির্ভরযোগ্য মাধ্যম।
বাজারে উপলব্ধ বিভিন্ন ফিচারের স্মার্টওয়াচগুলোর মধ্যে কোনটি আপনার জন্য সেরা, সেই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
কেন হৃদস্পন্দন পর্যবেক্ষণ করবেন?
হৃদস্পন্দন আপনার শরীরের অবস্থা সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। বিশ্রামরত অবস্থায় আপনার হৃদস্পন্দন কত, তা আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং শারীরিক সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা দেয়।
নিয়মিত হৃদস্পন্দন নিরীক্ষণের মাধ্যমে হৃদরোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো যেমন— অনিয়মিত হৃদস্পন্দন বা হৃদপিণ্ডের গতি বেড়ে যাওয়া— সনাক্ত করা যেতে পারে।
একটি ভালো হার্ট রেট মনিটর ওয়াচে কি কি বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার?
একটি ভালো হার্ট রেট মনিটর ওয়াচে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো থাকা জরুরি:
- হৃদস্পন্দন পরিমাপের সঠিকতা।
- ব্যবহারের সহজতা।
- ব্যাটারি লাইফ বা ব্যাটারির স্থায়িত্ব।
- পানি-নিরোধক ক্ষমতা।
- অ্যাক্টিভিটি ট্র্যাকিং ও অন্যান্য স্বাস্থ্য বিষয়ক ফিচার।
কিছু জনপ্রিয় হার্ট রেট মনিটর ওয়াচ:
আসুন, ২০২৩ সালের সেরা কিছু হার্ট রেট মনিটর ওয়াচ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক:
১. ফিটবিট ভার্সা ৪ (Fitbit Versa 4):
ফিটবিট ভার্সা ৪ -এর প্রধান আকর্ষণ হলো এর ব্যবহার সহজ এবং ফিচারের বৈচিত্র্য। এই ঘড়িটিতে রয়েছে ২৪/৭ হার্ট রেট ট্র্যাকিং সুবিধা, যা সরাসরি হোম স্ক্রিনে দেখা যায়।
এছাড়াও, ফিটবিট অ্যাপ ব্যবহার করে আপনি আপনার হৃদস্পন্দনের ইতিহাস এবং সময়ের সাথে এর পরিবর্তনগুলোও দেখতে পারবেন। ঘড়িটি ওয়াটার-রেসিস্ট্যান্ট, অর্থাৎ, পানিতে ভিজে গেলেও সহজে নষ্ট হবে না।
একবার চার্জ দিলে এটি ৬ দিন পর্যন্ত চলতে পারে।
২. ফিটবিট সেন্স ২ (Fitbit Sense 2):
যদি আপনি আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে চান, তাহলে ফিটবিট সেন্স ২ আপনার জন্য একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। এতে বিল্টইন জিপিএস, অ্যাক্টিভিটি ট্র্যাকার এবং ৪০টির বেশি ব্যায়াম মোড রয়েছে।
এই ঘড়িটি আপনাকে মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামের মাধ্যমে মনকে শান্ত রাখতে সহায়তা করে। ফিটবিট সেন্স ২-এ বিল্টইন ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং কন্টাক্টলেস পেমেন্টের সুবিধা রয়েছে।
এটি ১৬৪ ফুট (৫০ মিটার) গভীরতা পর্যন্ত জলরোধী।
৩. গারমিন ভাইভোস্মার্ট ৫ (Garmin Vivosmart 5):
ছোট হাতের জন্য এই ঘড়িটি খুবই উপযুক্ত। এটি আপনার হৃদস্পন্দন এবং অক্সিজেনের মাত্রা (শরীরে কতটুকু অক্সিজেন সরবরাহ হচ্ছে) পরিমাপ করে।
যাদের হৃদরোগ বা ফুসফুসের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য অক্সিজেনের মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা খুবই জরুরি। ঘড়িটিতে স্ট্রেস মনিটর এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামের সুবিধাও রয়েছে।
একবার চার্জ দিলে এটি ৭ দিন পর্যন্ত চলতে পারে এবং ১৬৪ ফুট (৫০ মিটার) গভীরতা পর্যন্ত জলরোধী।
৪. গুগল পিক্সেল ওয়াচ (Google Pixel Watch):
গুগল পিক্সেল ওয়াচ তাদের “সবচেয়ে নির্ভুল” হার্ট রেট ট্র্যাকিং-এর জন্য পরিচিত। এই মডেলটি প্রতি সেকেন্ডে একবার আপনার হৃদস্পন্দন ট্র্যাক করে।
এই ঘড়িটিতে ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম (ইসিজি) মনিটরিং-এর সুবিধাও রয়েছে, যা হৃদস্পন্দনের অনিয়মিততা সনাক্ত করতে পারে। ঘড়িটিতে বিল্টইন ব্লাড অক্সিজেন সেন্সর এবং জলরোধী সুবিধা আছে।
৫. গারমিন ফোররানার ২৬৫ (Garmin Forerunner 265):
যারা দৌড়বিদ, তাদের জন্য এই স্মার্টওয়াচটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। এতে টাচস্ক্রিন ডিসপ্লে, হৃদস্পন্দন ট্র্যাকিং এবং বিল্টইন জিপিএস-এর মতো বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
এটি হালকা ওজনের এবং দৌড়ের সময় আরামদায়ক অনুভূতির জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। ঘড়িটি ১৬৪ ফুট (৫০ মিটার) গভীরতা পর্যন্ত জলরোধী।
৬. অ্যাপেল ওয়াচ সিরিজ ১০ (Apple Watch Series 10):
এই ঘড়িটি অনেক উন্নত ফিচারের সঙ্গে আসে। এটিতে রয়েছে একটানা হার্ট রেট মনিটরিং, ইসিজি এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য বিষয়ক সুবিধা।
অ্যাপেল ওয়াচ সিরিজ ১০-এ উন্নত এট্রিয়াল ফিব্রিলেশন (Atrial Fibrillation বা এএফিব) সনাক্তকরণ এবং ব্যাটারির উন্নত ক্ষমতা রয়েছে। এটি ১৬৪ ফুট (৫০ মিটার) গভীরতা পর্যন্ত জলরোধী এবং একবার চার্জে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যবহার করা যেতে পারে।
৭. হুওপ ৫.০ (WHOOP 5.0):
এটি স্ক্রিনবিহীন একটি হার্ট রেট মনিটর। এই ব্র্যান্ডটি একটি পড-এর মতো ট্র্যাকার ব্যবহার করে, যা হাতের কব্জা, পোশাক বা স্পোর্টস ব্রা-এর সাথে যুক্ত করা যায়।
স্বাস্থ্য বিষয়ক ডেটা অ্যাপের মাধ্যমে দেখা যায়।
৮. স্যামসাং গ্যালাক্সি ওয়াচ আল্ট্রা (Samsung Galaxy Watch Ultra):
স্যামসাং গ্যালাক্সি ওয়াচ আল্ট্রা-কে “অংশত ঘড়ি, অংশত ভার্চুয়াল সহকারী” হিসাবে বর্ণনা করা হয়। এই ঘড়িতে রয়েছে উন্নত স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন ফিচার, যা ব্যবহারকারীকে ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য এবং পরামর্শ প্রদান করে।
ঘড়িটিতে একটি ব্যক্তিগতকৃত রানিং কোচ, ডুয়াল-ফ্রিকোয়েন্সি জিপিএস এবং বিভিন্ন ব্যায়ামের মোড রয়েছে। ঘড়িটি ১০ ATM জলরোধী, যা এটিকে আমাদের তালিকার সবচেয়ে বেশি জলরোধী ঘড়ি করে তোলে।
সঠিক হার্ট রেট মনিটর কিভাবে নির্বাচন করবেন?
আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী একটি হার্ট রেট মনিটর নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। দাম, বৈশিষ্ট্য, ব্যাটারির ক্ষমতা এবং নির্ভরযোগ্যতা—এসব বিষয় বিবেচনা করে আপনার জন্য সেরা ঘড়িটি বেছে নিতে পারেন।
চিকিৎসকের পরামর্শ:
হার্ট রেট মনিটর ব্যবহারের সময় কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে বা আপনার স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো উদ্বেগ থাকলে অবশ্যই একজন ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন।
তথ্যসূত্র: হেলথলাইন