চীনের সম্মেলনে ট্রাম্পের ‘ভূতুড়ে’ উপস্থিতি: বিশ্ব নেতাদের আলোচনায়!

চীনের তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) ২৫তম শীর্ষ সম্মেলন বসতে চলেছে। এই সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সহ বিভিন্ন দেশের নেতারা মিলিত হবেন।

তবে এবারের সম্মেলনে সবার আলোচনার কেন্দ্রে থাকবেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও তিনি সরাসরি এই সম্মেলনে উপস্থিত থাকছেন না, তবুও তার নীতি এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রভাব আলোচনার বিষয় হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ট্রাম্পের আমলে ভারতের ওপর শুল্ক আরোপের কারণে ভারতের বিদেশনীতিতে পরিবর্তন এসেছে। ট্রাম্প ভারতের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছিলেন, যা ভারতের জন্য ছিল বেশ কঠোর পদক্ষেপ।

এর ফলস্বরূপ, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীকে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করতে এবং চীনের প্রতি নমনীয় হতে হয়েছে।

এই সম্মেলনে মোদীর যোগদান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ২০১৮ সালের পর এই প্রথম তিনি চীন সফরে যাচ্ছেন। ২০২০ সালে চীন ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল, যা দুই দেশের সম্পর্ককে খারাপ করে তুলেছিল।

যদিও সম্প্রতি দুই দেশ ভিসানীতি শিথিল করেছে এবং বিমান চলাচল পুনরায় চালু করতে রাজি হয়েছে, তবুও সীমান্ত সমস্যা এখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও এই সম্মেলনে যোগ দেবেন। ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে পুতিনের এই চীন সফরকে অনেক বিশ্লেষক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।

পুতিন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে ৩ সেপ্টেম্বর বেইজিংয়ে একটি সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নেবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক বর্তমানে “সীমাহীন”। এই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মূল কারণ হলো তারা উভয়ই যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে।

চীন বর্তমানে অর্থনৈতিক মন্দার সঙ্গে লড়ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের বাণিজ্য যুদ্ধ চলছে। অন্যদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়া আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে চীনের সমর্থন রাশিয়ার জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সম্মেলনে চীন নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করবে। তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে প্রমাণ করতে চাইবে যে চীন একটি নির্ভরযোগ্য এবং স্থিতিশীল শক্তি।

এসসিও-এর কাঠামোতে কিছু দুর্বলতা থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিমালার কারণে অনেক দেশ এখন এই জোটের দিকে ঝুঁকছে।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমে আসছে। ট্রাম্পের নীতি, যা মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক দুর্বল করেছে এবং বিশ্ব বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, চীনকে একটি নতুন সুযোগ করে দিয়েছে।

তিয়ানজিন এবং বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিতব্য এই শীর্ষ সম্মেলনগুলোতে চীনের নেতারা ওয়াশিংটনের বিকল্প হিসেবে চীনের ভাবমূর্তি তুলে ধরবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

তথ্য সূত্র: সিএনএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *