কিয়েভে ধ্বংসযজ্ঞ: শিশুদের মৃত্যুতে স্তব্ধ, শান্তি আলোচনা কি তবে ভেস্তে গেল?

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে, যাদের মধ্যে চারজন শিশু। শুক্রবার ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এই পরিস্থিতিতে, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর শান্তি আলোচনা কার্যত ভেস্তে যাওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।

হামলার পর কিয়েভ অঞ্চলে শোক দিবস ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যে চালানো হামলায় প্রায় ৬০০ ড্রোন ও ৩০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়, যা কিয়েভ শহরের কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।

ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকর্মীরা ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন, যাদের মধ্যে চারজন শিশুও ছিল।

নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী ছিল ২ বছর বয়সী এক শিশু। এখনো পর্যন্ত কয়েকজনের মরদেহ শনাক্ত করা যায়নি এবং আটজন নিখোঁজ রয়েছেন।

এই হামলায় আহত হয়েছেন ৫০ জনের বেশি।

ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মীরা টানা ৩০ ঘণ্টা ধরে উদ্ধারকাজ চালিয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে, যুদ্ধ বন্ধ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে বড় এই সংঘাতের সমাধানে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এখনো পর্যন্ত কোনো ফল দেয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিলেও তাতে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

ট্রাম্প সরাসরি আলোচনা শুরু না হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছিলেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা রাশিয়ার এই হামলাকে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং মস্কোর ওপর আরও চাপ প্রয়োগের অঙ্গীকার করেছেন।

এদিকে, ৯ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ব নেতারা জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে মিলিত হবেন, যেখানে সম্ভবত রাশিয়ার এই আগ্রাসন নিয়ে আলোচনা হবে।

পশ্চিমারা ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা গ্যারান্টি নিয়ে কাজ করছে, যাতে কোনো শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে রাশিয়া পুনরায় আক্রমণ করতে না পারে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া তাদের শর্ত থেকে সরতে রাজি নয়।

অন্যদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধবিরতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে এবং পুতিন ও জেলেনস্কির মধ্যে বৈঠকেরও প্রস্তাব দিয়েছে।

জেলেনস্কি দেশগুলোকে রাশিয়ার অর্থনীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের মাধ্যমে চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাঙ্ক আটলান্টিক কাউন্সিল মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্টরা পারমাণবিক সংঘাতের আশঙ্কায় পুতিনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা বোধ করেছেন।

তাদের মতে, পুতিন জানেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ইউক্রেনে রাশিয়ার অর্জনকে নস্যাৎ করার ক্ষমতা রয়েছে, তবে তারা সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের সেই ইচ্ছা নিয়ে সন্দিহান।

তথ্য সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *