যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে রাশিয়ার বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিরক্ষা মন্ত্রীরা। কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে তাঁরা কিয়েভে চালানো রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কড়া প্রতিবাদ জানান। এই হামলায় ২৩ জন নিহত হয়েছে এবং ইইউর কূটনৈতিক কার্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
খবরটি এমন সময় এসেছে, যখন ইউক্রেন-রাশিয়ার মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা চলছে।
বৈঠকে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন মন্ত্রীরা। এর মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার জব্দ করা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা, দেশটির উপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ইউক্রেনকে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা বৃদ্ধি করা।
তারা ইউক্রেনকে ইইউ সদস্যপদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করেছেন।
ইইউর পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কাল্লাস বলেন, “রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শান্তি প্রচেষ্টাকে উপহাস করছেন। এমন পরিস্থিতিতে চাপ প্রয়োগ করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।”
বৈঠকে নিরাপত্তা ও শান্তিরক্ষায় ইইউর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইউক্রেনে ইইউর প্রশিক্ষণ মিশন পাঠানোর বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
কাল্লাস আরও জানান, রাশিয়ার অর্থনীতির মেরুদণ্ড দুর্বল করতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে ৮২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের অস্ত্র সহায়তা অনুমোদন করেছে। এই সহায়তার মধ্যে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
লিথুয়ানিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোভিল শাকালাইন বলেন, কিয়েভে হামলার ঘটনা প্রমাণ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার আশা ‘অবাস্তব’। তিনি আরও যোগ করেন, “পুতিন সময়ক্ষেপণ করছেন, যা আরও বেশি মানুষ হত্যার নামান্তর।”
শাকালাইন রাশিয়ার জব্দ করা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার উপর জোর দেন।
আয়ারল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাইমন হ্যারিস বলেন, “ইউক্রেনে রাশিয়ার এই আগ্রাসী যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আরও পদক্ষেপ নিতে হবে।”
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন দের লিয়েন শুক্রবার লাটভিয়া থেকে রাশিয়া ও বেলারুশ সীমান্তবর্তী ইইউ দেশগুলোতে সফর শুরু করেছেন। এই সফরে তিনি অস্ত্র কারখানা ও সীমান্ত পরিদর্শন করবেন।
ইউক্রেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বর্তমানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ একটি জটিল পর্যায়ে পৌঁছেছে। উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা চললেও, শান্তি চুক্তি এখনো অধরা।
এমন পরিস্থিতিতে, ইইউর এই পদক্ষেপগুলো যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তথ্য সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস