চীনের নারীদের অনলাইনে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া এবং বিচার পাওয়ার কঠিন লড়াইয়ের একটি চিত্র ফুটে উঠেছে। সম্প্রতি, ‘মাস্কপার্ক’ নামের একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে তাদের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
এই ঘটনা চীনে নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়েছে, কারণ দেশটির বিদ্যমান আইন এক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের তেমন কোনো সহায়তা করতে পারছে না।
মাস্কপার্ক চ্যানেলটি বন্ধ করে দেওয়া হলেও, একই ধরনের কন্টেন্ট সরবরাহকারী অন্যান্য চ্যানেল এখনো সক্রিয় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, অনলাইনে সম্মতি ছাড়া ছবি বা ভিডিও প্রকাশের শিকার হওয়া নারীদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে নতুন আইনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন অধিকারকর্মীরা।
তারা চান, হয়রানির শিকার হওয়া নারীদের পাশে দাঁড়ানো হোক, এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। এমনকি, টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষেরও এক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা থাকতে পারে বলে মনে করেন তারা।
ভুক্তভোগী নারীদের অভিযোগ, চীনে বিদ্যমান আইন এক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। ‘সাউদার্ন মেট্রোপলিস ডেইলি’ নামক একটি সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ডি’ নামের একজন নারী মাস্কপার্ক-এ তার ছবি ও ভিডিও আপলোড হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন।
তিনি জানান, তার সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে কাটানো কিছু অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি সেখানে দেখা যাচ্ছিল। তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ জানালেও, কোনো প্রতিকার পাননি। আইনজীবীর পরামর্শ নিলেও, বিদ্যমান আইনে প্রতিকারের তেমন কোনো সুযোগ নেই।
এই পরিস্থিতিতে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, চীনে টেলিগ্রাম ব্যবহারের জন্য ভিপিএন (VPN) ব্যবহার করতে হয়, যা ব্যবহারকারীদের পরিচয় গোপন রাখতে সহায়তা করে।
ফলে, কে বা কারা এই ধরনের কাজ করছে, তা জানা কঠিন।
চীনের বাইরে, দক্ষিণ কোরিয়ার ‘এনথ রুম’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরেছেন বিশেষজ্ঞরা। দক্ষিণ কোরিয়ায় নারীদের ব্ল্যাকমেইল করে তাদের ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
এরপর, সেখানে অনলাইনে হয়রানি বিষয়ক আইন আরও কঠোর করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রেও, সম্মতি ছাড়া ভিডিও ছড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
তবে, চীনে বিদ্যমান আইনে এই ধরনের অপরাধের বিচার দুর্বল বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে, অভিযুক্তদের সামান্য শাস্তি দিয়ে পার পেয়ে যেতে দেখা যায়।
এমনকি, অশ্লীল বিষয় ছড়ানোর অভিযোগে নারীদের গ্রেপ্তার করার ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ছিল, তারা নাকি “রোমান্টিক ফিকশন” লিখতেন। অধিকারকর্মীরা মনে করেন, এই ধরনের দুর্বল আইন এবং প্রয়োগের অভাবে নারীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বর্তমানে, চীনে অনলাইনে নারীদের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা বেড়েই চলেছে। অধিকারকর্মীরা বলছেন, এই সমস্যার সমাধানে শুধু আইন পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়, বরং প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ভুক্তভোগীদের জন্য সমন্বিত সহায়তা প্রয়োজন।
তথ্য সূত্র: এসোসিয়েটেড প্রেস