মিনিয়াপলিস গির্জায় হামলার বীভৎসতা: গুলি, চিৎকার আর মৃত্যুর বিভীষিকা!

মিনিয়াপোলিসে গির্জায় বন্দুক হামলার ঘটনায় শোকস্তব্ধ, ১১ বছর বয়সী বালিকার চোখে বিভীষিকা।

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের একটি ক্যাথলিক চার্চে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হামলার শিকার শিশুদের মধ্যে দুইজন নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে আরও অনেকে।

এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ১১ বছর বয়সী ক্লোয়ি ফ্রাঙ্কোয়াল নামে এক বালিকা, সেইদিনের বিভীষিকাময় ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে।

গত সপ্তাহে, স্কুলের প্রথম দিনের প্রার্থনা সভার সময় এই হামলা চালানো হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব হয়ে পরে শিশুরা।

গুলির শব্দে প্রথমে তারা আতংকিত হলেও, পরে আত্মরক্ষার্থে আশ্রয় নেয়। ক্লোয়ি জানায়, গুলির শব্দ শোনার পরেই তারা বুঝতে পারে, কি ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এরপর সবাই দ্রুত আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করে।

ক্লোয়ি জানায়, হামলার সময় তাদের শিক্ষক প্রার্থনা করছিলেন। হঠাৎ গুলির শব্দে সবাই প্রথমে হতচকিত হয়ে পরে।

পরে যখন তারা বুঝতে পারে ঘটনাটি গুরুতর, তখন আত্মরক্ষার জন্য ছোটাছুটি শুরু হয়। ঘটনার সময় কয়েকজন শিশু বেঞ্চের নিচে আশ্রয় নেয়, আবার কেউ কেউ পিলারের আড়ালে লুকায়।

ক্লোয়ি এবং আরও কয়েকজন পাশের একটি শ্রেণীকক্ষে আশ্রয় নেয়।

বন্দুকধারী, তাদের স্কুলেরই প্রাক্তন ছাত্র ছিল বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছিল।

এই ঘটনায় নিহত শিশুদের মধ্যে ৮ বছর বয়সী ফ্লেচার মারকেল এবং ১০ বছর বয়সী হার্পার ময়স্কি নামের দুই জন শিক্ষার্থী ছিল। ক্লোয়ি তাদের বন্ধু ছিল।

এই ঘটনার পর ক্লোয়ি এবং তার পরিবার গভীর শোকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ক্লোয়ির বাবা জানিয়েছেন, মেয়েকে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ছোট্ট ক্লোয়ি, তার বন্ধুদের হারানোর শোক কিছুতেই ভুলতে পারছে না।

এই ঘটনায় সেখানকার স্থানীয় কমিউনিটিতে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। সবাই নিহত শিশুদের পরিবারকে সমবেদনা জানাচ্ছে।

এই ধরনের ঘটনা শিশুদের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করে, যা সহজে ভুলবার নয়।

ক্লোয়ি জানায়, সে আর আগের মত ওই চার্চে যেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। তার মনে হয়, সেখানকার পরিবেশ আর আগের মত নিরাপদ নেই।

সে জানায়, স্কুলের সহপাঠীদের সাথে স্বাভাবিকভাবে মিশতে তার কষ্ট হচ্ছে।

এই ঘটনার পর, স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তথ্য সূত্র: CNN

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *