স্কুল-গুলিতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা কতটা দুর্বল?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলগুলোতে বন্দুক হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের একটি ক্যাথলিক চার্চে শিশুদের উপর হামলার ঘটনা সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

যেখানে শিশুরা প্রার্থনা করতে গিয়েছিল, সেখানেই ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত স্কুল অথবা উপাসনালয়গুলোর মতো ‘নরম লক্ষ্যবস্তু’ গুলোতেই হামলাকারীরা সহজে তাদের আঘাত হানতে পারে। কারণ, এসব স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে দুর্বল থাকে।

গির্জা এবং স্কুলের মতো স্থানগুলো সাধারণত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে, যা হামলাকারীদের জন্য সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

মিনেসোটার ঘটনার আগে, গত কয়েক বছরে আরও কয়েকটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ২০২০ সালে টেনেসির একটি খ্রিস্টান স্কুলে হামলা, যেখানে তিনজন শিশুসহ ৬ জন নিহত হয়।

এছাড়া, উইসকনসিনের একটি খ্রিস্টান স্কুলেও হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে কয়েকজন হতাহত হয়। শুধু তাই নয়, ২০১৮ সালে পেনসিলভানিয়ার একটি সিনাগগে এবং ২০১৭ সালে টেক্সাসের একটি ব্যাপটিস্ট চার্চেও বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

এই পরিস্থিতিতে, ধর্মীয় স্কুলগুলোর জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, তেমনিভাবে উপাসনালয়গুলোর উন্মুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যেমন – নিরাপত্তা ক্যামেরা স্থাপন, অ্যালার্ম সিস্টেম এবং জরুরি অবস্থার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

মিনেসোটার ঘটনার পর, সেখানকার কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে। জানা গেছে, হামলাকারী ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগে ওই চার্চে গিয়েছিল এবং সেখানকার ভেতরের নকশা তৈরি করেছিল।

এছাড়া, স্কুল কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে জরুরি অবস্থার জন্য মহড়া পরিচালনা করে এবং কিছু নির্দিষ্ট সময়ে স্কুলের দরজা বন্ধ করে দেয়। কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে হতাহতের সংখ্যা কমানো সম্ভব হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্কুলগুলোতে নিরাপত্তা বাড়াতে হলে, সেখানকার পরিবেশের উপরও খেয়াল রাখতে হবে। অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে যেন স্কুলের স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

তথ্য সূত্র: CNN

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *