দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ইয়ুন সুক ইওলের স্ত্রী, কিম কিয়ন-হীকে ঘুষ ও অন্যান্য অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার বিশেষ তদন্ত দল এই তথ্য জানায়।
জানা গেছে, দেশটির সামরিক আইন জারির চেষ্টা এবং ক্ষমতাধর এই দম্পতির সাথে জড়িত কেলেঙ্কারি নিয়ে চলা বৃহত্তর তদন্তের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে খবর, ইয়ুন সুক ইওলের অপসারণের পর থেকে বিশেষ প্রসিকিউটররা এই মামলার তদন্ত করছিলেন। এপ্রিল মাসে ইয়ুনকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়।
এরপর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন এবং বিচার কার্যক্রম চলছে। নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে লি জায়ে-মিয়ুং জুন মাসের শুরুতে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর এই তদন্ত আরও জোরদার হয়।
অভিযোগের বিষয়ে কিম কিয়ন-হী এক বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তিনি কোনো অজুহাত দেখাবেন না এবং বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।
তার আইনজীবী মারফত পাঠানো বিবৃতিতে কিম বলেন, “যেমন গভীর রাতে উজ্জ্বল চাঁদ আলো দেয়, তেমনই আমি আমার সত্য ও হৃদয়ের দিকে তাকিয়ে এই সময়টুকু পার করব।” তবে বিবৃতিতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
কিমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে শেয়ার বাজার সংক্রান্ত জালিয়াতি এবং ঘুষের মতো গুরুতর বিষয় রয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে, তার কারাদণ্ড হতে পারে।
এই কেলেঙ্কারিগুলো ১৫ বছর আগের কিছু ঘটনার সাথে জড়িত এবং এর কারণে ইয়ুনের রাষ্ট্রপতি শাসনামলে তার ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের আঘাত লেগেছিল। এমনকি তার দলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
কিমের আইনজীবীরা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা বলেছেন, তিনি যে উপহারগুলো গ্রহণ করেছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা নিছক অনুমান।
এদিকে, সামরিক আইন জারির সিদ্ধান্তের জেরে ইয়ুনের ক্ষমতাচ্যুতির ঘটনা ঘটে। সেই সময়ে কিম একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ছিলেন এবং স্বামীর রাজনৈতিক উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
সামরিক আইন সংক্রান্ত সংকট নিয়ে তদন্তকারী বিশেষ প্রসিকিউটররা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সুকেও অভিযুক্ত করেছেন। তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে প্ররোচনা ও মিথ্যা বলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রসিকিউটরের মুখপাত্র পার্ক জি-ইয়ং বলেন, “আসলে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ছিলেন সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা একজন ব্যক্তি, যিনি প্রেসিডেন্টের অসাংবিধানিক, অবৈধ সামরিক আইন জারির সিদ্ধান্তকে আটকাতে পারতেন।”
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রসিকিউটররা হানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তবে তিনি সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি।
ইয়ুন ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অভিজ্ঞ এই টেকনোক্র্যাট ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরে, সামরিক আইন জারির ক্ষেত্রে ইয়ুনকে সহায়তা করার অভিযোগে হানকে অভিশংসিত করা হয়।
যদিও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন, তবে সংকট সমাধানে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি কিছু দায় স্বীকার করেছিলেন।
পরে, সাংবিধানিক আদালত হানের অভিশংসন বাতিল করে এবং তাকে পুনরায় দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেয়। কিন্তু জুন মাসের নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য পদত্যাগ করার পর রক্ষণশীলদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হওয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
তথ্য সূত্র: সিএনএন